কমলগঞ্জের বড়চেগ গ্রামে ষোড়শী মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগঃ

পল্লীকণ্ঠ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বড়চেগ গ্রামের স্থানীয় করিম উদ্দিনের ছেলে হারুনর রশীদ (৩৫) এর হুকুমে একই গ্রামের অসহায় এতিম ষোড়শী মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী জানান,একই গ্রামে ও পাশাপাশি বাড়ি থাকায় রশীদের ভাই মসুদ মিয়া প্রায় সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিত ও উত্যক্ত করতো।

ঘটনার বিবরণে মেয়েটি জানান, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের বন্ধু মুন্সিবাজারস্ত আব্দুর রব এর ছেলে শান্ত মিয়া গত ০৫/০৬/২০২০ ইং তারিখে  তাদের বাড়িতে বেড়াতে এলে রাস্তা ভুলে যায় তখন ভুক্তভোগী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য রাস্তায় যান, সেইসময় দেখতে পান রশীদের এক ভাই সাজু মিয়া সহ কয়েকজন যুবক মেয়েটির আত্মীয় পরিচয়কারি শান্ত মিয়াকে ধরে চর থাপ্পড় দিয়ে টেনে রশীদের বাড়ির দিকে যেতে চাইছে তখন ভুক্তভোগী সাজুর কাছ থেকে ছেলেটিকে রক্ষা করতে চাইলে সাজু মেয়েটির নিচপেটে লাথি ও মাথায় ঘুসি মারে,মার খেয়ে তিনি দৌড়ে বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার বড় বোনকে খোলে বলেন তখন তার মা গরুর জন্য ঘাস আনতে মাঠে ছিলেন।

এর কিছুক্ষণ পরে রশীদ লোক পাঠিয়ে খবর দেয় ভুক্তভোগী মেয়েকে তার (রশীদের) বাড়িতে যাওয়ার জন্য তখন তার মা ও বড় বোনকে সাথে নিয়ে রশীদের বাড়িতে যান। গিয়ে দেখতে পান তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয় ছেলেটিকে রশি দিয়ে একটি খুটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে রশীদের উঠানে (আঙ্গিনায়) তখন তারা এর প্রতিবাদ করেন,এসময় রশীদের লম্পট ভাই মসুদ মিয়া ভুক্তভোগীকে একটু আড়ালে নিয়ে বলে “যদি তুই আমর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করিস তাহলে ছেলেটির কাছ থেকে কিছু টাকাপয়সা রেখে ছেড়ে দিবো” এই কথা শুনার পর তিনি বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ করতে মুখ থেকে বাহির করার আগেই অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে ভুক্তভোগীকে মারতে শুরু করে।

 

তাকে বাঁচাতে বড় বোন এগিয়ে আসলে হারুনর রশীদের হুকুমে তাকেও চুল ধরে লথি ঘুসি মারতে থাকে মৃত মখদ্দছ আলীর দুই সাজু মিয়া(২৭),সুলতান মিয়া(৪০),আমির আলীর ছেলে রুহুল আমিন(২২),মৃত মদরিছ মিয়ার ছেলে রকিব মিয়া (৩৩),একপর্যায়ে তার মা চিৎকার করলে তার মাকেও মারধর করে কাপড় টেনেহিঁচড়ে কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার মা আলেখা বেগম।

তিনি আরো বলেন ওরা আমাদের দুই বোনকেও রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর করতে থাকে একপর্যায়ে তারা রশি গলায় পেঁচিয়ে দু’দিকে টানতে থাকে তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি এরপর জ্ঞান ফিরলে জানতে পারি ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রতিবেশী কয়েকজন আমাদের দু’বোনকে উদ্ধার করে আমাদের নিজ বাড়িতে দিয়ে গেছেন,এরপর কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি।

ভুক্তভোগীর পরিবারের একমাত্র অভিভাবক তার মা আলেখা বেগম (৪৭) কেঁদে কেঁদে বলেন “বাপ হারা এই এতিম বাচ্চাগুলোকে অনেক কষ্টে বড় করেছি একদিন গায়ে হাত তুলিনি অথচ আজ আমার দুই মেয়েকে ঐ রশীদ নিজে উপস্থিত থেকে তার বাহিনী দিয়ে যে নির্মম নির্যাতন করলো! আমি কি ক্ষতি করেছিলাম তার?আলেখা বেগম আরো বলেন,  স্থানীয় ভাবে বিচারের কথা উঠলে রশীদ বলেন এখানে কোনো বিচার হবেনা,কেইস মামলা হবেনা যদি হয় তাহলে আমার মেয়েকে (ভুক্তভোগী) জানে মেরে ফেলবে লাশ খুঁজে পাবেনা।

 

এখানে বাল্য বিবাহের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নে ভুক্তভোগীর মা আলেখা বেগম বলেন,যেদিন রশীদের বাড়িতে আমাদেরকে মারধর করা হয় এর দুই দিন পরে পুলিশ আসে সাথে একজন মহিলা (এ.সি ল্যান্ড) এসে আমাদেরকে জিজ্ঞেস করেন এখানে বাল্য বিয়ে হচ্ছে নাকি,তখন আমি বলি না আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি তাহলে বাল্য বিয়ে হবে কেন,আমার ছেলের বন্ধু এসেছিলো এই নিয়ে ঝামেলা হয়েছে এর পর বাল্য বিয়ে হবেনা মর্মে প্রথমে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার স্বাক্ষর করেন এরপরে রশীদ স্বাক্ষর করে তাদের সাথে    আমিও স্বাক্ষর করি,কোনো বিচার না পেয়ে তিনি এখন আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচারের আশায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে এই প্রতিবেককে জানান।

বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে কথা হয় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাহমুদ আলীর সাথে,তিনি বলেন ঘটনাটি আমি শুনেছি তবে ঐ সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলামনা আলেখা বেগম (ভুক্তভোগীর মা)  আমাকে জানিয়েছেন উনার মেয়েদের কে কোব বেশি মারধর করা হয়েছে তখন আমি উনাকে বলি চেয়ারম্যান কে জানানোর জন্য এবং ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেই। স্থানীয় ভাবে বিচার সালিশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে মেম্বার বলেন আমার কাছে এবিষয়ে ওদের কেউ আসেনি তাই আমি তাদেরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এর থেকে আর বেশি কিছু আমার জানা নেই।

এব্যাপারে জানার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল কে একাধিক বার ফোন কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি।

এই বিষয়ে অভিযোক্ত হারুনর রশীদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন ঘটনাটি ভিত্তিহীন আমি বাল্য বিয়ে বন্ধ করেছি আপনি চাইলে এ.সি ল্যান্ড কে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

তখন কমলগঞ্জ উপজেলার এ.সি ল্যান্ড (ভূমি কর্মকর্তা) নাসরিন চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমরা খবর পাই বড়চেগ গ্রামে বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ভুক্তভোগীর ঘরে যাই তখন ভুক্তভোগীর মা বলেন এখানে কোনো বাল্য বিয়ে হচ্ছেনা আমার মেয়ের সাথে ছেলেটি দেখা করতে আসায় একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

 

গ্রামের মানুষ আটক করেছে,যেহেতু এখানে মেয়ের মানসম্মান জড়িত তাই এর একটি রফাদফা না করে তিনি ছেলেটাকে ছাড়বেননা। ভূমি কর্মকর্তা আরো বলেন,আমরা যেহেতু সেখানে বাল্য বিয়ের কোনো আলামত পাইনি এবং ছেলে মেয়েকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি  ছেলের বয়স ২১ বছর হয়নি মেয়ের বয়সও ১৮ হয়নি তখন যাতে করে বাল্য বিয়ে সংঘটিত না হতে পারে সেজন্য মুচলেকা নেই ।

 

সেখানে  অনেক কথাই হয় ছেলেকে নাকি আটকে রাখা হয়েছিলো তখন আমি বলি আমরা কোনো লিখিত কিছু পাইনি লিখিত ছাড়া আমারা আইনত কিছু করার নেই,আমি মেয়ের মাকে আরো বলি,আপনি ছেলের মা বাবা সাথে যোগাযোগ করে যত তারাতাড়ি সম্ভব স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বিষয়টা সমাধান করেন।

 

যেহেতু এখানে আপনার মেয়ের মানসম্মানের বিষয় তবে বিয়ে দেয়া যাবেনা, আমি মূলত বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি আর বাল্য বিয়ে হতে দেয়া যাবেনা এটা হলো আইনের ভিতরের কথা এছাড়াও মেয়ের মা আরো অনেক কিছুই বলেছেন সেগুলো আমরা আমলে নেইনি যেহেতু লিখিত কেনো কিছু ছিলোনা।