আমার মক্কেল নির্দোষ !!! মাহমুদুর রহমান মাহমুদ

 

আমার মক্কেল নির্দোষ!!! মাহমুদুর রহমান মাহমুদ

সিলেট এম,সি কলেজে ধর্ষণের গঠনায় যে অপরাদ হয়েছে সেই অপরাধের শাস্তি জনগন যে ভাবে চাইছে অর্থাৎ মৃত্যুদন্ড, সেটা আশা করে লাভ নাই। আজকে যে উকিল সাহেবরা আসামীদেরে আইনি সহায়তা না দিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তুলছেন আর মানুষের বাহ-বা নিচ্ছেন, কালকে তারাই কোর্টে আবেদন জানাবে মাননীয় আদালত আমার মক্কেল নির্দোষ!

যে সকল উকিল সাহেবরা ধর্ষণকারির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে যে প্রতিবাদ জানালেন সেটা শুধুমাত্র এম,সি কলেজের জন্য না সামগ্রিক ভাবে ? যদি সকল ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তাইলে কোনো ধর্ষণ মামলায় আসামিপক্ষে আইনি সহায়তা না দিয়ে, সারা বাংলাদেশের সকল উকিল সাহেবরা ধর্ষণ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী না হয়ে মামলার ফাইল পত্র আসামিকে পেরত দিয়ে সত্যিকারের প্রতিবাদ জানান।

এম,সি কলেজের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড়ে যে ভাবে দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে ঝড়ে সরকারের তাপমাত্রার কোন পরিবর্তন নাই। উকিল সাহেবরা যখন আইনের ধাঁরা উপধাঁরা বেরকরে আদালতের সামনে উপস্থাপন করবেন তখন আদালত ধাঁরা উপধাঁরার ফাঁকফোকরে যার যে শাস্তি হওয়ার তাই হবে। কিন্তু মহিলার সাথে যেটা হয়েছে বা মহিলার জিবীনে উপর যে আঘাত হয়েছে সেটা পৃথিবীর কোনকিছুতেই ফোরন করার মত বস্তু নহে।

এ সমাজের পরিবর্তন আনতে হলে আশ্রয় পশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে, শুধু ধর্ষণের বেলায় প্রতিবাদ করলেই শেষ নয়, সব জায়গায় বা সব অন্যায় এর বিরুদ্ধে দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে হবে। খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনা নয় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের মা বোনের ইজ্জত, আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধে শক্তি বর্দ্ধন করতে হবে।

এ সমাজে আমরা যারা বসবাস করি, কোন না কোন ভাবে আমরা একে অন্যের আতিয় বা পাড়া প্রতিবেশী, যখনি কারো বিপদ দেখি তখনি দলমত নির্বিশেষে একে অন্যের বিপদে, সুখে, দুঃখে ঝাপিয়ে পড়ি বা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। তখন কে আওয়ামিলীগ, কে জাতীয় পার্টি আর কে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের বিবেচনা না করে মৃত্যুর পরে দাফনকাজ করছি, বিয়েসাদীতে একে অন্যকে সহযোগিতা করছি, একি মসজিদে নামাজ পড়ি, একি মন্দিরে বসে প্রার্থনা করি। আমি কি মিথ্যা বলছি ? যদি মিথ্যা না বলে থাকি, তাইলে কেন রাজনৈতিক রেষারেষি নিয়ে সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি করছি ?

রাজনীতির রাজা বা কোন নেতা নয়, আপনার আমার “বাবা-মা” মথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে নিজের ছেলে মেয়ের ভরণপোষণ, লেখা পড়া বা অন্যান্য চাহিদা গুলো পুরন করতে সার্বক্ষণিক চিন্তামগ্ন থাকেন। মা বাবা বুকভরা আসা নিয়ে সন্তানের পিছনে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করতে থাকেন, সন্তান বড় হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষের মত মানুষ হবে, মা-বাবার কষ্টের দিন শেষে একটু শান্তি নিয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু সেই সন্তান যদি মানুষ না-হয়ে অমানুষ হয়, অর্থাৎ ধর্ষণকারি, সন্ত্রাসী, নেশাগ্রস্ত বা দুর্নীতিবাজ হয়, সেই সন্তানের পিতা মাতার বুকভরা কষ্ট ভুক্তভোগী মা-বাবা ছাড়া কেউ বঝবে না।

নোংরা রাজনীতির মানসিকতার পরিত্যাগ করে, আদর্শিক সামাজিক সম্প্রতি মাধ্যমে নিজেকে আদর্শবান পিতা-মাতার আদর্শিক সন্তান হিসাবে সমাজে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করা ও আদর্শবান সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে নিজেকে বদলে পেলুন। কোনো নারীর প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়ার আগে নিজের মা-বোনের কথা একবার ভাবুন, কোনো মানুষকে আঘাত বা খুন করার আগে নিজের বা নিজের ভাইয়ের প্রতি আঘাতের কথা চিন্তা করোন, কারো সম্পদ বা রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মসাৎ করার আগে নিজের সম্পদের কথা চিন্তা করোন।

খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে বা আদর্শবান সমাজ গড়তে প্রত্যেক মহল্লায়, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক শহরে, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, প্রত্যেক অফিস আদালতে সামাজিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলেন। হে বাংলার মানুষ আদর্শিক সমাজ গড়ার কাজে এক হও।

মাহমুদুর রহমান মাহমুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক পল্লীকণ্ঠ ডট কম