ড.আনিসুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শিল্প সাহিত্য ও গবেষণার বিশাল বটবৃক্ষ

 

চট্টগ্রাম নগর প্রতিনিধিঃ প্রফেসর অব ইমিরেটাস, ভাষা বিজ্ঞানী, লেখক, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেছেন দুই বাংলায় শিল্প-সাহিত্য ও গবেষণামূলক কর্মকান্ডে ড. আনিসুজ্জামানের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ইতিহাস ও বাংলা ভাষা বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর কলম সর্বদা সাহসী ও সোচ্চার ছিল। বক্তারা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে পরামর্শসহ গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ক্রান্তিলগ্নে ড. আনিসুজ্জামানের সাহসী ভূমিকার কথা বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ড. আনিসুজ্জামান সব সময় প্রগতিশীল ধারায় রাজনীতি করে গেছেন। গতকাল ২৮ অক্টোবর বিকাল ৫টায় নগরীর কদম মোবারক তারাবানু ভবনস্থ চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমেদ’র সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক রিমন মুহুরী ও সমীরন পালের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু (প্রসঙ্গতঃ প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামানের নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথি প্রাক্তন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি)।

প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো: খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১৪ দলীয় জোট নেতা স্বপন সেন, চট্টগ্রাম আইন কলেজ সাবেক জিএস সুমন দেবনাথ, চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুর রশিদ চৌধুরী, মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য আলহাজ্ব ওসমান গণি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শিব প্রসাদ, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান, কবিয়াল কল্পতরু ভট্টাচার্য, লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ দিদার আশরাফী, প্রশান্ত বড়–য়া, জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি, ছাত্রনেতা রাশেদুল হক খোকন। বক্তব্য রাখেন প্রণবরাজ বড়–য়া, পারভীন চৌধুরী, হাজেরাতুন্নেসা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাদুর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছবির আহমেদ, চৌধুরী জসিমুল হক, আওঙ্গজেব খান সম্রাট, মো: তিতাস।

শোক সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক খোকন বলেন,আনিসুজ্জামান স্যার প্রধান এবং প্রথম পরিচয় ‘শিক্ষক’। শিক্ষকতা ও গবেষণাই ছিল তাঁর প্রধান বৃত্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ ছাত্র চিরকাল তাঁকে মনে রাখবেন, হৃদয়ে ধারণ করে রাখবেন। রাশেদুল হক খোকন আরো বলেন, জীবনের শেষে প্রান্তে এসে তিনি বাংলাদেশের ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। এই পদ তাঁর জন্য শুধু একটা সম্মানজনক পদ বা সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। যুক্তি ও মনীষা দিয়ে জাতির প্রতিটি সংকটকালে অভিভাবকের মতো জাতিকে পথ দেখিয়েছেন তিনি, জাতীয় শিক্ষকের মতো, তিনি জাতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বারবার। অকুণ্ঠচিত্তে অসাম্প্রদায়িকতা, উদারনৈতিক গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার এবং প্রগতির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।