মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির হালচাল সরজমিন প্রতিবেদন।

পল্লীকণ্ঠ বিশেষ প্রতিনিধিঃ  বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টি সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় এ জেলায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি হ য ব র ল অবস্থা বিরাজ করছে। গত ২০ ডিসেম্বর, আগামী ৯০ দিনে অর্থাৎ ২০ মার্চ ২০২১ এর মধ্যে সম্মেলন করে জেলায় পুর্নাঙ্গ কমিটি করার জন্য একটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। এই অবস্থায় কমিটির আহবায়ক এডঃ মাহবুবুল আলম শামীম, সদস্য সচিব কামাল হোসেন দীর্ঘ তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ কমিটির মেয়াদ কালীন সময়ে কমিটির প্রথম সভা বা পরিচিতি সভাটি করতে পারেনি।

এর কারন হিসাবে জানতে চাইলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে জানতে পারি আহবায়ক ও সদস্য সচিব এর সমন্বয়হীনতার, স্বেচ্ছাচারী মনোভাব, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ, এসব কারনে নেতা কর্মীর মনোবল ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমান আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এডঃ মাহবুবুল আলম শামীম, ও সদস্য সচিব কামাল হোসেনের ডাকে নেতা কর্মী সারা দিচ্ছে না এতে কমিটির মেয়াদ উত্তির্ন হয়ে যায়।
শেষমেষ কেন্দ্রীয় নির্দেশে ১০১ দিনের মাথায় মেয়াদ উত্তির্ন জেলা আহবায়ক কমিটির সভা আহবান করা হয় গত ৩১ মার্চ বুধবার সকাল ১১ ঘটিকায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে। মেয়াদ উত্তির্ন কমিটির সভা না করে নতুন করে আহবায়ক কমিটি দেওয়ার জন্য নেতা কর্মীরা দাবী জানান।
নেতাকর্মীর দাবীর পরিপেক্ষে সভার প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্য মুনিম চৌধুরী বাবু স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে তাদের সমস্যা গুলো সভায় বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা জন্য এবং তাদের বক্তব্যের আলোকে সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের প্রধান এটিইউ তাজ রহমান এর মাধ্যমে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস দেন।
প্রধান অতিথির আশ্বাসের পরে মেয়াদ উত্তির্ন কমিটির সভা কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হলে, সভা পরিচালনা নিয়ে বাকবিতন্ড শুরু হয়। আহবায়ক ঘোষণা দিলেন সদস্য সচিব কামাল হোসেন শারিরীক দুর্বলতা কারণে সভা পরিচালনা করতে পরাবেন না, তাই তিনি জুনিয়র একজনের নাম ঘোষণা করেন এতে আপত্তি জানান যুগ্ম আহবায়ক বৃন্দ। তারা প্রস্তাব করলেন সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এর নাম, অথবা সাবেক কমিটির অন্যান্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বা যারা সবসময় সভা পরিচালনা করেন তাদের মধ্যে কাউকে দেওয়ার জন্য।
কমিটির আহবায়ক এডঃ মাহবুবুল আলম শামীম কারো কথা না শুনে তাহার এক জুনিয়র দলে সদ্য যোগদানকারী জনাব জুনেদ আলীকে সভা পরিচালনার ঘোষণা দিতেই সভায় হট্টগোল শুরু হয়, একপর্যায়ে সভা বয়কট করে কমলগঞ্জ উপজেলার সভাপতি দুরুদ আলী কমলগঞ্জের সবাইকে নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন, পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকলকে নিয়ে সদস্য সচিব কামাল হোসেন সভা বয়কট করে সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান, এমনি ভাবে যুগ্ন আহবায়ক এডঃ আফজাল হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক তজমুল হোসেন চৌধুরী, কুলাউড়ার সভাপতি এম লুতফুল হক সহ সবাই তাদের নিজ নিজ উপজেলার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা বয়কট করে চলে যাওয়ায় প্রধান অতিথি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে বলেন যেখানে সদস্য সচিব কামাল হোসেন চলে গেছেন সেখানে আর সভা চলেনা তাই আজকের সভা এখানেই শেষ।
৫ জন যুগ্ম আহবায়ক এর মধ্যে একজন মৃত্যুবরন করেন, যুগ্ম আহবায়ক তজমুল হোসেন চৌধুরীর, দুরুদ আলী ও এডঃ আফজাল হোসেন এর ভাষ্যমতে জানাযায় কমিটির শুরু থেকে তাদের সাথে কোন পরামর্শ বা কমিটির অন্যান্য সদস্যর সাথে কোন ধরনের পরামর্শ ছারাই আহবায়ক ও সদস্য সচিব গোপনে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাহা দলের নীতি আদর্শ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, যাহা কোনো ভাবে মেনে নেওয়া যায়না। বড়লেখা, জুরি, কুলাউড়া, রাজনগর, এই চারটি উপজেলা কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, বা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপআলোচনা না করে বা কোন সভাসমাবেশ না করে, অতি গোপনে জেলা কমিটির আহবায়ক মাহবুবুল আলম শামীম এর বাসায় বসে চারটি উপজেলার আহবায়ক কমিটির তালিকা তৈরি করে আহবায়ক সিল স্বাক্ষর করে অতি গোপনে সদস্য সচিব কামাল হোসেন এর কাছে পাঠানো হয়, কামাল হোসেন আহবায়কের চাপে বা অনুরোধে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে কমিটি গুলো আহবায়কের কাছে পাঠান যাহ পরবর্তীতে কামাল হোসেন স্বীকার করেন।
এমন কি জেলার পুর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে অতি গোপনে মাহবুবুল আলম শামীম নিজের ইচ্ছা মত নাম দিয়ে কেন্দ্রে পাঠালেন তাহার সদস্য সচিব যানেন না, সে বিষয়টি সাংগঠনিক টিমের প্রধান এটিইউ তাজ রহমান সহ টিমের অন্যান্য সদস্যের কাছে ধরা পরে।
তাত্ক্ষণিক গোপন কমিটিকে ফেরত পাঠালেন সংশোধন করে আহবায়ক ও সদস্য সচিব এর সমন্বিত স্বাক্ষরে কমিটি পুনরায় কেন্দ্রে পাঠালেন কমিটির আহবায়ক মাহবুবুল আলম শামীম। এসব অনিয়মের কারণে উল্লেখিত কমিটি আহবায়ক এডঃ মাহবুবুল আলম শামীম ও সদস সচিব কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে নতুন আহবায়ক ও সদস্য সচিব দিয়ে নতুন করে পুর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটি দেওয়া দাবী করছেন মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ।
পুনরায় কাদেরকে দিয়ে কমিটি দিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে, সে বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আহমদ এর নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন মেয়াদ উত্তির্ন হয়ার পূর্বেই আমাকে কোনো ধরনের জিজ্ঞেস না করে একটি নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আরেকটি আহবায়ক কমিটি অবশ্যই ভালর জন্য দিয়ে ছিলেন পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। বর্তমানে কতটুকু ভালো হচ্ছে আমার চেয়ে পার্টির নেতাকর্মী বা সংবাদ কর্মীরাই ভালো জানেন। বর্তমান কমিটির আহবায়ক এডঃ মাহবুবুল আলম শামীম পার্টিতে অনেক জুনিয়র, উনি পার্টিতে যোগদানের কিছু দিন পরে ২০১৪ সালে সম্মেলন প্রস্তুতি আহবায়ক আমি এবং সদস্য সচিব এডঃ মাহবুবুল আলম শামীমকে করা হয়েছিল কিন্ত সেখানে উনার ব্যর্থতা অনেক ছিল, সময় মত সম্মেলন করতে গিয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছিল মাহামদুর  রহমান মাহমুদ তার পরিশ্রম ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ২০১৪ সালে সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি, পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত প্রিয় নেতা পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর জনসভা এই সভাই ছিল স্যারের সর্বশেষ জনসভা মৌলভীবাজার।
বলছিলেন কাদেরকে নেতৃত্ব দিলে সমস্যার সমাধান হতে পারে, আমি দ্বিতীয় বার আর নেতৃত্বে আসতে চাইনা। আমি মনে করি নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে পুনরায় নতুনভাবে কমিটি দিলে সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা বেশী ? যেমন আহবায়ক হিসাবে সিনিয়রদের মধ্যে ৩/৪ যেমন তজমুল হোসেন চৌধুরীর (সদর), দুরুদ আলী ( কমলগঞ্জ) এডঃ আফজাল হোসেন ( বড়লেখা) এম লুতফুল হক ( কুলাউড়া) এর মধ্যে যেকোনো একজন দিলে তারা সমন্বয় করতে পারবেন।  এবং সদস্য সচিব হিসেবে ২/৩ জন এর মধ্যে যেমন মাহামদুর  রহমান মাহমুদ ( সদর) মিজানুর রব ( শ্রীমঙ্গল) মুহিবুল কাদের চৌধুরী পিন্টু (শ্রীমঙ্গল) যেমন বেলায়ত  আলী খান জুয়েল, জোসেফ, মুর্শেদ ওরা সক্ত ভাবে যুব নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে এই নবীনদের মধ্যে সমন্বয় বা একতা আছে এবং ওরাই আগামীতে মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেবে। যদিও মাহমুদ অনেক সময় আমার বিরোধীতা করেছে কিন্ত সে একজন সংগঠক, আমি মনে করি মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাল দিতে বা সংগঠন গতিশীল এবং নেতাকর্মীকে সমন্বয় করা একমাত্র মাহমুদুর রহমান মাহমুদ পারবে এটা আমার বিশ্বাস।
উল্লেখিত কথা গুলো মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আহমদ  চা নাস্তার ফাকে বলে পেল্লেন। তবে মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক হালঅবস্থা খোঁজতে একটু গভীরে  গিয়ে দেখি, সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার ৭টি উপজেলা ৫টি পৌরসভা ৬৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা, ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত এ জেলা জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে ছিল, ৪ টি সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, এবাদুর রহমান, নওয়াব আলী আব্বাস ও আহাদ মিয়া ১৯৯০ইং পর হইতে ধীরে ধীরে জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ছলে যায়।
১৯৯৬ বিএনপি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এভাবে এজেলার রাজনৈতিক উত্থানপতনে আজ জাতীয় পার্টি তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ক্ষমতার সুবিধাভোগী নেতারা জাতীয় পার্টি ছেড়ে অন্যান্য দলের সুবিধা সুবিধাভোগ করতে চলে গেলেও ২০২১ সালেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি পরেই জাতীয় পার্টির অবস্থান রয়েগেছে এখন সঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন ।
চোখ রাখুন পরবর্তী প্রতিবেদনে, আসছে মৌলভীবাজার সংসদীয় আসন (১) বড়লেখা <> জুরি।