সরকার তুমি কার-? লকডাউন মানতে চাই, সাথে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেতে চাই… ভুক্তভোগী জনগণ।  

পল্লীকণ্ঠ বিশেষ প্রতিনিধিঃ  সরকার তুমি কার?  আমি লকডাউন মানতে চাই, কিনতু আমার ঘরে “খাওনের” কিচ্ছু নেই। আমি লকডাউন মানতে চাই, কিন্তু বাহিরে গিয়ে সবজি আনবো সেই “মুভমেন্ট পাস” নেওয়ার কোন ব্যবস্তা আমার নেই। আমি লকডাউন মানতে চাই, কিন্তু ব্যাংকে আমার টাকা আছে, “ব্যাংক বন্ধ” টাকা দেবে কে ?
একজন শ্রমিক তার নিত্য দিনে রোজি বা শ্রমের উপর নির্ভর করে তার সংসারের জীবন জীবিকা, স্ত্রী সন্তান মা বাবা ভাই বোনের খাবার। রমজান মাসে সারা বছরের চেয়েও একটু ভালো খেতে চায়, কিন্ত লকডাউনের কারনে সেই ভালো খাবার খাওন দুরের কথা সেহরির বা ইফতার করার মত সেই খাবারটুকু জুটাইতে পারছি না। পাড়া প্রতিবেশী আমার ঘরের খবর জানেনা কারণ তার নিজের ঘর সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরকারের রাজ ভান্ডারে হাজার কোটি টাকা থাকলে কি হবে এই রমযান মাসে আমাদের মত কর্মহীন মানুষকে একমাসের খাবার না দিয়ে লকডাউন দেওয়া ঠিক হয়নি, আমরা লকডাউন মানতে চাই কিন্তু আমার ঘরে খাবার নাই, স্ত্রী সন্তান মা বাবা ভাই বোনের দিকে থাকালে কাজে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় নাই। এই কথাগুলো একজন পরিবহন শ্রমিকের।
বাজারে গিয়ে চাল বা ধান বিক্রি করে মাছ তরকারি বা তেল ডাল লবন কিন্তে অর্থাৎ ক্রয় করতে বাজারে যেতে হলে “মুভমেন্ট পাস” নাকি নিতে হবে, আমি কিভাবে মুভমেন্ট পাস নিব ? আমি একজন দিনমজুর বা কৃষক মোবাইলের মাধ্যমে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুভমেন্ট পাস নিব সেই মোবাইল বা ইন্টারনেট আমার কাছে নাই, বা কোথায় থেকে মুভমেন্ট পাস নিতে হয় তাও জানিনা, তাইলে আমি কি আমার স্ত্রী সন্তান মা বাবা ভাই বোনের জন্য খাবার সংগ্রহ করতে পারবনা ?
আমি লকডাউন মানতে চাই কিন্তু এসব আজগুবি কথা শুনতে চাই না। সরকার  রমযান মাসে লকডাউন দিয়ে জনগণকে কষ্ট দেওয়া সরকারের উচিৎ হয়েছে বলে আমি মনে করি না। রমযান মাসে মানুষ রোজা রেখে এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা, সেই সুযোগ থেকে সরকার আমাদেরকে বঞ্চিত করছে বলে আমি মনে করি। এই কথাগুলো একজন দিন মজুর ও কৃষকের।
পবিত্র মাহে রমজানে লকডাউন দিয়ে সরকার আমাদেরকে বড় বিপাকে ফেলেছে, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক, আমাদের সামান্য আয়ের মধ্যে হিসাব করে চলতে হয়। ছোটখাটো ব্যবসা বা বিদেশি আয়ের উপর সংসার নির্ভরশীল, রমযান মাসে লকডাউন এর কারনে ব্যবসা বন্ধ হয়াতে নিজের সংসার বা কর্মচারী বেতন যাহা প্রতি দিনের আয় থেকে দেওয়া হয়। এখন কর্মচারী বেতন দেই কেমনে আর নিজের সংসার চালাই কেমনে, ছেলে বিদেশ থেকে কিছু টাকা পাটিয়ে ছিল সেই টাকা তুলতে পারিনি ব্যাংক বন্ধ থাকার কারনে।
সব মিলিয়ে আমরা শ্রমজীবী বা মধ্যে আয়ের জনগণের উপর সরকারের লকডাউন মানে “মরার উপর খরার গাঁ” আমরা লকডাউন মানতে চাই, সাথে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেতে চাই।
এই কথাগুলো একজন মধ্যবিত্ত নাগরিকের।
রমজান ও লকডাউনে নাগরিকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে পল্লীকণ্ঠের হাঁটে গাঁটে মাঠে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের এই ছিল প্রতিবেদন।
এই ছবিট সংগ্রহীত,