প্রবাসীর ভুমি জবরদখল করে গৃহ নির্মাণ করলেন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা ফজলুর আহমেদ।  

 

প্রবাসীর ব্যক্তি মালিকানা ভুমি জবরদখল করে গৃহ নির্মাণ করলেন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা ফজলু আহমেদ।  

 বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলায় মোস্তফা পুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে প্রকাশিত কোদালি ছড়া নিকটবর্তী জুনেদ খাঁন গং দের চতুর দেওয়ালে ভিতর ভূমি জবরদখল করে গৃহ নির্মাণ। জগন্নাথপুর মৌজায় জে এল নং ১৭২, আর এস খতিয়ান ৪১৬১ আর এস দাগ নং ১৮০৪ এর অন্তর্ভুক্ত .১৮৭২ একর অর্থাৎ ২৮ শতক ৭২ পয়েন্ট ভূমি খরিদা সূত্রে জুনেদ খাঁন, পিতা মৃত আছলম খাঁন, সাকিন মাইজ বাড়ন্তি, ডাক কামালপুর, জেলা ও উপজেলা মৌলভীবাজার গং দীর্ঘ প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত খরিদা সূত্রে ভূমির  মালিক হিসাবে ভোগদখল করছেন। এ হিসাবে জুনেদ খান গং দীর্ঘদিন যাবত এ জায়গায় বসবাস বা ভোগদখলকার হিসাবে রয়েছেন।
গত ১১/০৫/২১ ইং আনুমানিক বিকাল ০৩.৩০ ঘটিকায় সীমানাপ্রচীরের ভিতরে এসে জোরপূর্বক জবরদখল করে তফসিল বর্নিত ভূমিতে গৃহ নির্মাণ করেন জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর নেতা  ফজলু আহমেদ। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় গত ১২/০৫/২১ ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা নং ৫৩/২০২১ ইং, মামলার এজাহারে অভিযুক্ত বিষয় সমুহের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
ভূমির প্রকৃত মালিক জুনেদ খাঁন গং প্রবাসে থাকার কারনে, ভূমির মালিকের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রতিনিধির এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে আপত্তি দেওয়ার পরেও, আপত্তি না মেনে পরিবহন শ্রমিকদের দলবল সঙ্গে নিয়ে ফজলু আহমেদ অনধিকার প্রবেশ করে জোরপূর্বক একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। মালিকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গৃহ নির্মাণ করে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখেন এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্হাপন করেন।
মৌলভীবাজার সদর মোস্তফা পুর ইউনিয়নের  জগন্নাথপুর মৌজার জেএল নং ১৭২, এস এ খতিয়ান নং ২৯, এস এ দাগ নং ৫৪৮,  বর্তমান আরএস জরিপে আর এস খতিয়ান নং ৪১৬.১, আর এস দাগ নং ১৮০৪, ভূমির পরিমাণ .১৮৭২ একর, অর্থাৎ ১৮ শতক ৭২ পয়েন্ট। বর্তমান আর এস জরিপে এ ভূমির মধ্যে .৫৭২ অর্থাৎ ৫ শতক ৭২ পয়েন্ট ভূমি সরকারের নামে খাস রেকর্ড হয়ার  কারণে, বর্তমান ভোগদখলকার মালিকের পক্ষে আমমোক্তার মোঃ ইমরান খাঁন, পিতা মোহাম্মদ আনোয়ার খাঁন, সাকিন মাইজ বাড়ন্তি, ডাক কামালপুর, জেলা ও উপজেলা মৌলভীবাজার, বাদী হয়ে মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত মৌলভীবাজারে, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার সহ মোট ৪ জনকে বিবাদী করে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নং- ১৩৩/২০২০ ইং (স্বত্ব),
মামলার নথিপত্র অনুসন্ধানে জানা যায় তফসিল বর্নিত ভূমিতে বাঁধা বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রদান না করার দাবিতে বর্তমান ভোগদখলে ভূমির মালিক পক্ষ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত মৌলভীবাজার, বাদী পক্ষেকে আবেদন আমলে নেন এবং বিচার কার্য শেষ না হয়া পর্যন্ত, বাদীর পক্ষেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বিচারামলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত মৌলভীবাজার এর আদেশ অমান্য করে বহিরাগত কিছু লোক অর্থাৎ জেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা ফজলুর আহমেদ তাহার দল-বল নিয়ে জুরপুর্বক অন্যের ভূমি জবর দখল করে অবৈধভাবে গৃহ নির্মাণ করে, আদালত অবমাননা করার মত অপরাধের অংশ হিসাবে বা অপরাধের শামিল মনে করা হয়।
  (আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি)
 যহেতু উল্লেখিত তফসিল বর্নিত ভূমিতে মননীয় আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা মামলা চলমান থাকায় , বিদ্যুৎ অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে উল্লেখিত তফসিল বর্নিত ভূমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য  লিখত অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগ
বিবেচনা না করে, সেখানে অনাধিকার প্রবেশ এবং বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর সহযোগিতায় অর্থাংকের বিনিময়ে সম্পুর্ন বেআইনী ভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় প্রতিনিধি রোবেল আহমেদ জানান। এবিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে খোজ নিলে জানা যায় অবৈধ দখলদার শ্রমিক নেতা ফজলুর রহমান যে মিটার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্হাপন করেছেন, সেই মিটারের মুল মালিক দনাশ্রী বা কদমহাটা গ্রামে, আর বর্তমানে মিটারটি মোস্তফা পুর ইউনিয়নে জগন্নাথপুর গ্রামের কুদালি ছড়া এলাকায় অবৈধ দখলদারে নির্মিত টিনের ঘরে লাগানো হয়েছে, যাহা আইনের চোখে সম্পূর বেআইনি। এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এর কারণে যদি কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটে এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাইলে এর দায়ভার কে নিবে, বিদ্যুৎ অফিস না অবৈধ বিদ্যুৎ মিটারের মালিক ? বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা এবং যারা এ অবৈধ কাজে সম্প্রীত বা জরিত রয়েছেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্তা করা।
উল্লেখিত ভূমি সমুহের ভোগদখলদারে মালিক গন বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত থাকার সুযোগে জবরদখলদার পক্ষ জোর জবরদস্তির বা পেশীশক্তিকে কাজে লাগিয়ে, প্রবাসীর সম্পদ বা ভূমি গ্রাসকরণে অভিনব কৌশল হিসাবে একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর দাবী প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্লেখিত বিষয় সমুহের বাস্তবতা বিবেচনা করে এই অবৈধ জবরদখলদারকে উচ্ছেদ করে, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষদেরকে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ করে দেওয়া।
 উল্লেখিত তফসিল বর্নিত ভূমির মালিক জুনেদ খাঁন গং এর পক্ষে অত্র ভুমি সহ ভূমিতে দালান ঘর বা দোকান ঘর সহ বিভিন্ন আসয় বিষয়ে দেখাশোনার জন্য  মালিকের খালাতো ভাই রোবেল আহমেদ প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যারা বিদেশের মাটিতে পরিশ্রম করে ঘাম ঝরাচ্ছেন, আজকে দেশে মাটিতে তাদের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রুবেল আরো বলেন দীর্ঘ দিন যাবত এ ভূমি ভোগদখল করে আসছেন, বর্তমান আর এস জরিফ ভুল বসত কিছু ভুমি সরকারের নামে খাস জমি হিসাবে রেকর্ড হয়ে যাওয়ায়, এস এ জরিপ মোতাবেক বর্তমান ভোগদখলীয় মালিকের নামে ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত মৌলভীবাজার মামলা চলমান রয়েছে।
  (মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগের কপি)
ভূমির মালিক পক্ষ প্রবাসে থাকায়, গত ১১/০৫/২১ ইং তারিখের ঘটনা করনে প্রবাসে থাক ভূমির মালিকের পক্ষে মোঃ ইমরান খাঁন (২১)  অভিযোগকারী হয়ে, জোরপূর্বক ভাবে অবৈধ জবরদখদার ১নং ফজলু আহমেদ (৪৫), ২নং আহাদ মিয়া (৪৫), ৩নং নান্নু মিয়া (৪৭) কে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, নন, এফ, আই, আর নং ৫৩/২০২১ ইং তারিখ ১২/০৫/২১ ইং ধারা ১০৭/১১৭ (সি) ফৌঃ কাঃ বিঃ, সূত্র ১১/০৫/২০২১ ইং জি,ডি নং ৫৬৯, চলমান রয়েছে। (অভিযুক্ত ব্যক্তিদয়ের পূর্নাঙ্গ ঠিকানা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে)
  === বিদ্যুৎ অফিসে দেওয়া অভিযোগ পত্র ===