আওয়ামী লীগের দুর্দিনের প্রবাসী নেতা আলহাজ্ব মহিব উদ্দিন (আঙ্গুল মিয়া) আজ নীরবে লন্ডনে

 

পল্লীকণ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ আও বাঙ্গালী সংগ্রাম করি ৬ দফার লাগি, পদ্মা মেঘনা যমুনা তুমার আমার ঠিকানা, জয় বাংলা। বঙ্গবন্ধুর শেষ কথা ছিল, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা কর। বঙ্গবন্ধুর সেই গর্জনে বাঙ্গালীরা কেহ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে, কেহ যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে যুদ্ধ করে, আবার কেহ প্রবাস থেকে মুক্তিযুদ্ধে টাকা দিয়ে যুদ্ধ করে, এমনি এক প্রবাসী বাঙ্গালীর অর্জনের কিছু কথা লিখি।

জনাব আলহাজ্ব মুহিব উদ্দিন (আঙ্গুর মিয়া) যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি লিডার ও মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সংগঠক | যিনি প্রয়াত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আজিজুর রহমানের বন্ধুবর ও মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীর খুবই ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন।

 

যিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও স্হানীয় পর্যায়ে প্রয়াত আজিজুর রহমান সহ আন্দোলনকমাী তরুণদের সাথে কৈশোরকালীন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ৫২ এর পর বিদেশে পাড়ি জমালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য ও পরবর্তীতে ওয়েস্ট লন্ডন আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন।

১৯৭১ সালে দেশে যখন পাক হানাদার বাহিনী একের পর এক বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল, দেশের মানুষ যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য উদগ্রীব, তখণ তিনি প্রবাসে থেকে দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিব নগর সরকারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে লন্ডনে বাঙ্গালী প্রবাসী দেরকে সংগঠিত করেন যুদ্ধকালীন সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন, আলহাজ্ব মহিব উদ্দিন (আঙ্গুল মিয়া)।

লন্ডনে অবস্থানরত মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে “ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট” এ্যাকশন কমিটি নামে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মাধ্যমে ব্রিটিশ এমপি জনস্টন হাউজের সহযোগিতায়, লন্ডনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মুক্তিকামী বাঙালিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে থাকেন। দেশে যখন যুদ্ধের দামামা চলছিল, তখন মুজিব নগর সরকার ভারতের কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রবাসী সরকার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে তৃতীয় বাংলা খ্যাত গ্রেটবৃটেনের লন্ডন শহরে স্মরণকালের সেরা সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচি সহ যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিদের স্টিয়ারিং কমিটির অধীনে উনারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে গিয়েছেন।  আলহাজ্ব মহিব উদ্দিন (আঙ্গুল মিয়া) গ্রেটবৃটেনে “ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট” এ্যাকশন কমিটির একজন সক্রিয় সদস্যও ছিলেন।  বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও আজিজুল হক সাহেবের নেতৃত্বে গ্রেটবৃটেনের সারা দেশে স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে প্রায় একশত-এর মত এ্যাকশন কমিটি গঠন কেরন।

সেখান থেকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক পাউন্ড সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রবাসী সরকারকে দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন সেই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব মহিব উদ্দিন (আঙ্গুল মিয়া) । আজ সত্যিই বাঙ্গালী হিসাবে গর্ব হয়, প্রবাসী সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য, যাহারা মুক্তিযুদ্ধে বিরাট ভুমিকা রেখেছিলেন। প্রবাসী এই দেশপ্রেমিক নাগরিকরা বাংলাদেশের জন্য নির্যাতিত বাঙালিদের সহযোগিতা ও স্বাধীন সার্বভৌম একটি স্বপ্নের স্বাধীন সোনার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য নিমিষেই কাজ করে গেছেন।

যিনি আজ মৌলভীবাজারের একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, আলহাজ্ব  মুহিব উদ্দিন (আঙ্গুর মিয়া) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খারঁরগাও এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। এই প্রচারবিমুখ মুক্তিযুদ্ধের বীর সংগঠকের প্রতি রইলো অপরিসীম শ্রদ্ধা, স্যালুট ও ভালবাসা। উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।