মৌলভীবাজার পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর STEP ( স্টেপ) প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষকদের মানববন্ধন।

Sheikh Sheikh

Muhaiminur Rahman

প্রকাশিত: 11:24 PM, January 18, 2022

মৌলভীবাজার পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর STEP ( স্টেপ) প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষকদের মানববন্ধন।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর STEP ( স্টেপ) প্রকল্পে নিয়োজিত ৭৭৭ জন শিক্ষক প্রায় ১৯ মাস যাবত বেতন ভাতা না পেয়ে কষ্টকর জীবন যাপন অতিবাহিত করে তাদের কর্মস্থলে অদ্যাবদি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ১৯ জন কারিগরি শিক্ষক সহ সারা বাংলাদেশে প্রায় ৭৭৭ জন শিক্ষক বিগত ১৯ মাস বেতন না-পেয়ে ১৮ জানুয়ারী ২০২২ ইং বকেয়া বেতন ভাতা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বা নির্দেশ মোতাবেক চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবীতে আজ সরা দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে শান্তিপূর্ণ ভাবে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেন, তার ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার পলি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্র শিক্ষক মিলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

 

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দাবির সাথে -শিক্ষার্থীর একাত্মতা পোষণ করে বলেন সারাদেশে STEP ( স্টেপ) প্রকল্পের ৭৭৭ জন শিক্ষক মাধ্যমে প্রায় লক্ষাধিক ছাত্র ছাত্রী শিক্ষা গ্রহন করছে, সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবী STEP ( স্টেপ) প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষকবৃন্দকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর করে তাদের ১৯ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধে করা।
শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন STEP ( স্টেপ) প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষকবৃন্দকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরের নিমিত্তে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে স্মারক নম্বর ঃ ৩৭.০০.০০০.০৭৬.০৫.০৩৭.১৬-৩১৭ এর সারসংক্ষেপের আলোকে, ২২/০৫/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন প্রদান করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এবং জনবলের অনস্বীকার্যতা বিবেচনায় প্রকল্প সমাপ্তির দিন থেকেই ৩০/০৬/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক স্মারক নংঃ ৫৭.০০.০০০০.০৫১.১৫.০০৩.১৯-৪২৫(ক), এর আলোকে স্টে অর্ডার প্রদান করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে স্মারক নংঃ ৫৭.০০.০০০.০৫১.১৫.০০৩.১৯-৪২৫(ক) এর আলোকে, ০২/০৭/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে, সমাপ্ত প্রকল্পের শিক্ষকদের চাকুরী অব্যাহত রাখার নিমিত্তে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে স্মারক নংঃ ৩৭.০৩.০০০.০০১.১৮.০৮.৯০.১৬/৪৭০(১৪০) এর আলোকে, ২৫/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে, STEP সমাপ্ত প্রকল্পের শিক্ষকদেরকে, “স্টেপ থেকে রাজস্ব খাতে আসার প্রক্রিয়াধীন” নামে অভিহিত করণ এবং নিয়মিত শিক্ষকদের অনুরূপ সকল কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে স্মারক নংঃ ৫৭.০০.০০০০.০৫১.১৫.০০৩.২০১৯-৬৬৭ এর আলোকে, ০৭/১১/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় কে শিক্ষকদের চাকুরী অব্যাহত রাখার নিমিত্তে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় হতে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়, যথাক্রমে ১৮/০৬/২০২০ এবং ২০/০৮/২০২০ খ্রিঃ তারিখে।
(৬), প্রকল্প থেকে রাজস্বকরণের ক্ষেত্রে মামলার মাধ্যমে সুযোগ রহিত করার জন্য মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ৪৬০/১৭ এর রায় প্রকাশিত হয় ২০১৯ এর ডিসেম্বরে। যেহেতু মামলার রায় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজস্বকরণের অনুমোদন দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ঠ দফতর রাজস্বকরণের প্রক্রিয়ার সবরকম ব্যবস্থাপনা গ্রহন করেছে তদুপরি ” স্টেপ থেকে রাজস্বে প্রক্রিয়াধীন শিক্ষকবৃন্দের” রাজস্বকরণের যে কোন প্রকার জটিলতা নিরসনে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, আপীল বিভাগের পর্যবেক্ষন ও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে, বিস্তারিত বিষয়াদি উল্লেখপূর্বক ১৮ই মে ২০২১ খ্রিঃ তারিখে, উক্ত জনবলকে রাজস্বকরণের নিমিত্তে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা প্রয়োগে আইনি কোন প্রতিবন্ধকতা নাই মর্মে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরাবর ডিও প্রদান করেন।

৪৬০/১৭ রায় প্রকাশিত হবার পরও, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরাধীন SESIP প্রকল্পের জনবল এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়াধীন প্রকল্পের জনবল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের আন্তরিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের আড়াই বছর পরেও সমাপ্ত স্টেপ থেকে রাজস্বে প্রক্রিয়াধীন জনবল, দীর্ঘ ১৯ মাস বেতন বিহীন অবস্থায় সকল দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আমাদের সবার বয়স ৩৫ এর উপরে, আমাদের যাওয়ার কোন পথ নাই, তাই এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

উপস্থাপনা করেনঃ মারুফা খাতুন (ইন্সট্রাক্টর,ননটেক)
ছাত্রদের মাঝে বক্তব্য রাখেনঃ মেহেদী হাসান( ফুড টেকনোলজি)
রুহান (কম্পিউটার টেকনোলজি)
সেন্টু দাস (ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি)
শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন
মসরুফ আহমদ চৌধুরী (ইন্সট্রাক্টর, ইলেকট্রনিক্স)
তারনুমা আহমেদ ( ইন্সট্রাক্টর ইলেকট্রনিক্স)
আবু নাসের (ইন্সট্রাক্টর আর এ সি)