মৌলভীবাজার “জান্নাত মেডিকো” (ফার্মাসী), গ্রাহকের সাথে অমানবিক আচরণের অভিযোগ।

পল্লীকণ্ঠ প্রতিবেদকঃ  দীর্ঘ  ৪০ বছর ধরে এই দোকানের কোন নিয়ম নাই ঔষধ বদল করে দেওয়ার বা নেওয়ার, এমনই তথ্য জানিয়েছেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্তর সংলগ্ন জান্নাত মেডিকো (জান্নাত ফার্মাসী) এর ম্যানেজার ও সেলসম্যানরা।

(৬ জুলাই) বিকাল ৩ টার দিকে ২০০ মি,লি লেকটু (লেক্টুজোল গ্রুপের)   এই ঔষধ টি জান্নাত মেডিকো থেকে ক্রয় করেছিলেন সৈয়দ সায়েদ আহমেদ । ৫ ঘন্টা পর রাত সোয়া ৮ টার দিকে ২০০ মিঃ বোতল বদলি করে ১০০ মি,লি লেকটু ছোট একটি বোতল আনতে গিয়ে ছিলেন সৈয়দ সায়েদ আহমদ।

ঔষধ,টি বদলি করে ২০০ মিলির বদলে ১০০ মিঃ  দেওয়ার কথা বলেন, তখন দোকানের সেলসম্যানরা জানান, তাদের দোকানে ঔষধ বদলে দেওয়ার কোন নিয়ম নাই। তাদের  কথোপকথন ক্যাশ থেকে শুনছিলেল বয়স্ক ম্যানেজার, তিনি সেলসম্যানের উদ্দেশ্যে বলছিলেন বদল করে না দেওয়ার জন্য। বয়স্ক ম্যানেজারের শব্দ শুনে উনার দিকে তাকিয়ে দেখেন  তিনি কথা বলছেন রাগান্বিত ভাষায়।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সায়েদ ম্যানাজারের সাথে কথা বলতেই ম্যানাজার একই ভাষায় উপরের কথা গুলো শুনিয়েছেন। কোন উপান্ত্য না পেয়ে বলছিলেন এই দোকান থেকে তিনি এই প্রথম ঔষধ কিনেছেন নতুন মানুষ বা গ্রাহক হিসাবে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য । এবং  কোন মেমো দেননি, মেমো দিলে হয়ত এসব মনগড়া নিয়ম জানতে পারতেন, ঔষধটি আজকের মতো বদলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে ম্যানাজার ওই রাগান্বিত ভাষায় উনার দোকানের দেয়াল দেখিয়ে বলেন, ওইখানে লেখা আছে দেখেন, তিনি কোন অবস্থা  ঔষধ বদলিয়ে দিবেন না।

এই অমানবিক বা বেআইনি নিয়ম বাতিল না করে ব্যবসা পরিচালনা করা মানুষের সাথে প্রতারণার শামিল ।

এই নিয়ম অন্যায়, অমানবিক এবং ক্রেতাসাধারণ কে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। ঔষধ ব্যাবসা একটা সেবাধর্মী ব্যবসা, তাদের এই নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত এবং প্রশাসন গ্রাহক হয়রানি রোধে বিষয়টি যেনো গুরুত্বসহকারে আমলে নেন।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তেরর জনাব আল আমিন জানান, এটা খুবই অন্যায় ও অমানবিক। একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের এধরণের নিয়ম বাঞ্চনীয় নয়। তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তাদের বুঝানোর চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আইনে এব্যাপারে সুস্পষ্ট নিদের্শনা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তবে তিনি সাংবাদিকসহ সমাজের বিশিষ্ট জনদের এব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহবাণ জানান এবং জেলা প্রশাসকের নজরে আনার তাগিদ দেন।

Syed Sayed Ahmed  তাহার ফেইসবুক আইডিতে এ অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রশাসনসহ সমাজের সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।          ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জান্নাত মেডিকো কর্তৃপক্ষ কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ঔষধ ক্রয় করা হলে সেই ঔষধ ফেরত নেওয়া বা বদলি করে দেওয়া হয় না। এর কারন হিসেবে বলেন  ঔষধের গায়ে লিখা থাকে ঔষধ নিদিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার জন্য সেই তাপমাত্রায় না রাখলে ঔষধ নষ্ট হয়ে যতে পারে। দ্বিতীয় কারন ঔষধটি যাকে দেওয়া হল সেই ব্যক্তি বা তার ঘর থেকে কোনধরনের জীবানু বা ভাইরাস আসতে পারে যেটার ধারা প্রতিষ্ঠান বা অন্য গ্রাহক আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।  তৃতীয় কারন ঔষধ দোকান থেকে বাহির হয়ে যখন গ্রাহকের কাছে চলে যায় তখন সেই ঔষধকে পুরাতন হিসাবে ধরে নওয়া হয়, কারন কেউ ঔষধ নেওয়ার একদিনের মধ্যে বা কেউ একমাসের মধ্যে বা পরে এসে ঔষধ বদলানো বা ফিরত দিতে আসবেন, আর এই পুরাতন ঔষধ অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যুক্তিসঙ্গত হবেনা। তাই বিক্রিত ঔষধ সামগ্রী ফিরত নেওয়া হয়না বা বদলি করে দেওয়া হয় না। এ জন্য দোকানে লিখে রেখেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঔষধ সামগ্রী  ক্রয় করবেন না, ক্রয়কৃত মালামাল ফিরত বা বদলানো যাবে না।